1. news.polytechnicbarta@gmail.com : admin :
  2. contact.mdrakib@gmail.com : Rakib Howlader : Rakib Howlader
  3. tanjid.fmphs@gmail.com : Tanjid : Tanjid
“১৮ মাস বেতন ছাড়াই ক্লাশ নিচ্ছেন পলিটেকনিক শিক্ষকরা” - পলিটেকনিক বার্তা
মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ

“১৮ মাস বেতন ছাড়াই ক্লাশ নিচ্ছেন পলিটেকনিক শিক্ষকরা”

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম শনিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৩৬৭ বার পঠিত

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ-শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তারাধীন ৭৭৭ জন শিক্ষকে “বেতন না দিয়েও ক্লাস নেওয়াচ্ছেন ১৮ মাস, দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউ, অসুস্থ হয়ে কেউ মারা গেছেন, কেউ ভুগছেন রোগ শোকে “

রেজাউল করিম, শরীয়তপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এ শিক্ষকতা করছেন নয় বছর ধরে। ভালো লাগা থেকে শিক্ষকতা পেশায় আসেন। পরে সুযোগ আসলেও অন্য চাকরিতে আর যান নি। এখানেই থিতু হয়েছেন।এখন বয়সও শেষ অন্য কোথাও যাওয়ার। এতোদিন ঠিকঠাক বেতন পেলেও করোনা শুরুর পর ২০২০ সালের জুন থেকে কর্তৃপক্ষ বন্ধ রেখেছে দেশের ৪৯ টি সরকারি পলিটেকনিকের এরকম ৭৫৫ জন শিক্ষকের বেতন।

এমনকি তাদের চাকরি স্থায়ীকরণে ২০১৯ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনও বাস্তবায়ন করেনি ৩ মন্ত্রণালয়। ফলে দীর্ঘ হতাশায় ২৩ ডিসেম্বর সকালে হার্ট অ্যাটাক করে বসেন রেজাউল করিম। তাকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে। তিনি এখনো সেখানেই চিকিৎসাধীন। তবে তার চিকিৎসার খরচ কয়েক লক্ষ টাকা আসায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে দুই মাস আগে ভোলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর শিক্ষক আব্দুর রহমান শামীম দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বেতনহীন অবস্থায় মারা যান।

কিছুদিন আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে বকেয়া বাড়ি ভাড়া দিতে না পারায় তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে দূর্বিষহ দিন যাপন করছেন।

বেতন এবং চাকরির টেনশনে স্ট্রোক করে ভালো চিকিৎসা নিতে না পারায় মারা গেছেন ভোলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর শিক্ষক নূরুন্নাহার বেগম এবং কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর আব্দুর রহিম। টাকার অভাবে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে পারেননি ওরাল ক্যান্সারে আক্রান্ত শিক্ষক ফরহাদ আলী।

হেপাটাইসিস বি তে আক্রান্ত রকিব আহসান, আহাদ আলীসহ বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর স্টেপ প্রজেক্টের এরকম অনেক শিক্ষকই এখন বেতনহীন অবস্থায় চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

কেউ এক বছর বাসা ভাড়া দিতে পারছেন না। অনেক জায়গায় শিক্ষকদের বাসা ছেড়ে দিতে বলেছেন। অনেক শিক্ষক লজ্জায় মুদি দোকানে আর বাকি চাইতে পারছেন না। এভাবে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত কারিগরির পলিটেকনিক শিক্ষকদের।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে স্টেপ প্রকল্প ২০১৯ এর জুনে শেষ হওয়ার আগেই মে মাসে ৭৮৬ জন শিক্ষককে রাজস্বখাতে স্থান্তারের প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দেন। সে অনুযায়ী ৪ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতির জন্য অনুরোধ পত্রসহ পরবর্তীতে তাগিদপত্র পাঠালেও তাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সাড়া দেয় নি।

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন এর সাত মাসেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্মতি না দেওয়ায় জটিলতায় পড়তে হয় বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষকরা। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত এর একটি রায়ের কারণে সব প্রকল্পের জনবলকে রাজস্বখাতে স্থানান্তরে সিদ্ধান্তহীনতা চলছে। কিন্তু পলিটেকনিক এ শিক্ষকদের রাজস্ব কার্যক্রম তার আগে থেকে শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে । উচ্চ আদালতের ৪৬০/২০১৭ রায় এবং ১৯৯৭ সালের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মুলবক্তব্য একই। এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত সারসংক্ষেপে ১৯৯৭ সালের আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে /অন্য আইনে যাই বলা থাকুক না কেন উল্লেখ করে রাজস্বখাতে স্থানান্তরে সিদান্ত দিয়েছেন তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশটি অগ্রাধিকারযোগ্য বলে বিশিষ্টজনরা মনে করছেন।

তাছাড়া আদালতের রায়ের মধ্যেও যে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করা হয় নাই তা শিক্ষামন্ত্রী নিজেই এক চিঠিতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে লিখেছেন। ২০১৯ এর জুনে কারিগরি শিক্ষা বিস্তারের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত ফাইলে ১৮ হাজার পদ সৃষ্টির সম্মতি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি হয়ে সেই পদগুলোতে নিয়োগ সম্পন্ন করলেও একই সময়ে পাঠানো স্টেপ প্রকল্পের জনবলকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের ফাইলটি এখনো ওই আড়াই বছর আগের জায়গায় পড়ে আছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। এদিকে প্রকল্প মেয়াদ শেষ হলেও তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার আদেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। মেয়াদ শেষে এক বছর তাদের বেতনও পরিশোধ করা হয়। এর পরে দেড় বছর থেকে জনপ্রশাসনের সম্মতি বিষয়ক জটিলতা শেষ না হওয়ায় দীর্ঘ ১৮ মাস থেকে বন্ধ রয়েছে তাদের বেতন। এ বিষয়ে কেউ স্পষ্ট করে কিছু বলছে না। ওদিকে ৪৯ টি পলিটেকনিকে ইনস্টিটিউট থেকে তাদের ক্লাস, হাজিরা যথারীতি তদারকি চলছে। সিংহভাগ পলিটেকনিকই চলছে সমাপ্ত স্টেপ প্রকল্পের শিক্ষকদের দিয়ে যাদের ছাড়া পলিটেকনিকগুলো একরকম অচল।

TVET Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © polytechnicbarta.com
Theme Customized BY LatestNews