1. news.polytechnicbarta@gmail.com : admin :
  2. contact.mdrakib@gmail.com : Rakib Howlader : Rakib Howlader
  3. tanjid.fmphs@gmail.com : Tanjid : Tanjid
এ আগুন কত যন্ত্রণার - পলিটেকনিক বার্তা
সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন

এ আগুন কত যন্ত্রণার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৮৭ বার পঠিত

শওকত আলম সোহেল ব্যবসা করতেন, সচ্ছলতা ছিল। করোনার কামড়ে ব্যবসা বন্ধ, সংসারে অনটন। নিজের শখের মোটরসাইকেলটিই তখন হয়ে ওঠে সহায়। সেই মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিলেন তিনি। কতটা ত্যক্ত-বিরক্ত আর যন্ত্রণায় ভুগে মানুষ এমনটা পারে?

ব্যবসা হারিয়ে দুই মাস ধরে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাও-এর মাধ্যমে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করতেন সোহেল। কিন্তু রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বারবার মামলা দেওয়ায় হয়ে ওঠেন ত্যক্ত-বিরক্ত। গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোড এলাকায় এক সার্জেন্ট আবার কাগজপত্র নিয়ে মামলা দিতে গেলে ক্ষুব্ধ সোহেল জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বনটিতে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।

সোহেলের বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জে। তিনি স্যানিটারি সামগ্রীর ব্যবসা করতেন।

বাইকে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে মর্মান্তিক উল্লেখ করে পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে আজ (মঙ্গলবার) কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপবেজড ড্রাইভারস ইউনিয়ন অব বাংলাদেশ।

গুলশান ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে, সেখানে কয়েকটি ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে ছিল। যার জন্য যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। রাইড শেয়ারিংয়ের একটি মোটরসাইকেল দাঁড়ালে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা চালকের কাছে কাগজপত্র দেখতে চান। কিন্তু চালক কাগজপত্র না দেখিয়ে উল্টো রেগে নিজের বাইকে নিজেই আগুন ধরিয়ে দেন।

মোটরসাইকেল আগুনে পোড়ানোর দৃশ্য ঘটনাস্থল থেকে পথচারী ফেসবুকে লাইভ করলে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, বাইকে আগুন দিয়ে সোহেল উদ্‌ভ্রান্তের মতো চিৎকার করছেন। আশপাশ থেকে কেউ একজন কিছুটা পানি ঢেলে দেন জ্বলন্ত মোটরসাইকেলের ওপর। তখন সোহেল তাকে বাধা দেন। বলেন, ‘কেউ যাবেন না, আপনারা কেউ যাবেন না।’ অন্য একজন সোহেলকে বলেন, ‘ভাই, মাথা ঠান্ডা করেন।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মিরাদুল মুনিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি অফিসে যাওয়ার জন্য গাড়ির অপেক্ষায় বাড্ডার লিংক রোডে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দেখেন, পাশেই একজন লোক গ্যাসলাইট দিয়ে মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এর তিন-চার গজ দূরেই দুজন ট্রাফিক পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিলেন। মোটরসাইকেলে আগুন ধরার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশ সেখান থেকে চলে যায়। মোটরসাইকেল চালক আশপাশের লোকজনকে বলেন, গত সপ্তাহেও একটা মামলা দিয়েছে পুলিশ। আজ গাড়িটা থামানোর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ মামলা দিতে আসে। অনেক অনুনয় করার পরও কাগজ নিয়ে গেছে। তই ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।

বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ মিয়া বলেন, সার্জেন্ট মামলা দেননি। কাগজপত্র দেখতে চেয়েছিলেন। চালক সোহেল ও সার্জেন্ট দুজনকেই থানায় এনে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সোহেল জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলের কাগজ ঠিক থাকার পরও বারবার মামলা দিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। চলতি মাসেও পল্টনে একবার মামলা দেওয়া হয়। তাই রাগে-ক্ষোভে বাইকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।

অ্যাপবেজড ড্রাইভারস ইউনিয়ন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমেদ বলেন, হয়রানির জন্য একজন চালক তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। এ ধরনের ঘটনাও যদি পুলিশকে নাড়া না দেয়, তাহলে কি আত্মাহুতি দিলে তাদের বিবেক নাড়া দেবে? তিনি আরও বলেন, গাড়ি কোথাও ব্রেক করলেই ধরে ফেলে ট্রাফিক পুলিশ।

ছয় দফা দাবিতে কর্মবিরতির ঘোষণা প্রসঙ্গে বেলাল আহমেদ বলেন, ‘সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের দাবির প্রতি সহমর্মিতা দেখায়নি। আমরা ষষ্ঠবারের মতো আন্দোলনে যাচ্ছি। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দাবি আদায় করব।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © polytechnicbarta.com
Theme Customized BY LatestNews