1. news.polytechnicbarta@gmail.com : admin :
  2. mdrakibbpi@gmail.com : Rakib Howlader : Rakib Howlader
  3. tanjid.fmphs@gmail.com : Tanjid : Tanjid
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু মৃত ব্যক্তির জন্য জীবিতদের যে আমল করতে বলে ইসলাম কারিগরি শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত গ্রেডেশন তালিকা প্রকাশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললে হবে না এইচএসসি পরীক্ষা এমপিওভুক্ত হচ্ছেন বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আরও ২৪১ শিক্ষক ডিপ্লোমা ভর্তির ৩য় পর্যায়ের ফলাফল প্রকাশিত ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমের পরীক্ষা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি কাল থেকে টানা পাঁচদিন প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা পদায়ন নিয়ে সংকটে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড উন্নত দেশ গড়তে ইঞ্জিনিয়ারদের অবদান রাখতে হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

ইনস্টিটিউট ও টেকনোলজি নির্বাচনের আগে যে বিষয়গুলো জেনে রাখা ভাল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০
  • ৪১৯ বার পঠিত

এসএসসি/দাখিল/সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। যারা আশানুরূপ ফল করেছো বা করোনি সবাইকে পুষ্প অভিনন্দন। যারা আশানুরূপ ফল করতে পারোনি তাদের হয়তো মন খারাপ। তোমাদের বাবা-মা কিনবা পরিচিত জনদের মন্তব্যে হয়তো নিজের পৃথিবীকে সংকীর্ণ মনে হচ্ছে, হওয়ার ও কথা কারণ আমাদের সমাজ বা পরিচিত জনেরা রেজাল্টকেই সফলতার মাপকাঠি মনে করে। এই মুহূর্তে আসলে রেজাল্ট খারাপ হলেও মন খারাপ করে কোন লাভ নেই, কারণ মন খারাপ করলেও রেজাল্ট পরিবর্তনের কোন সুযোগ আর নাই। তাই তোমার যে ফলাফল হয়ছে তাতেই সন্তুষ্ট থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বুদ্ধিমানের কাজ।

তোমাদের মধ্যে অনেক অভিভাবক বা নিজেরাই হয়তো চিন্তা ভাবনা করে রাখছো কারিগরি শিক্ষায় ক্যারিয়ার গড়তে পলিটেকনিক এ ভর্তি হবে।তাই ফলাফলের চিন্তা ঝেড়ে ফেলে পরিকল্পনা কর কিভাবে পছন্দের একটি ইনস্টিটিউট ও সাবজেক্টে ভর্তি হওয়া যায়। করোনা ভাইরাসের কারণে আপাতত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ, কিন্তু ভর্তি কার্যক্রম যেকোনো সময় শুরু হয়ে যেতে পারে। তাই তোমাদের কাজ হবে আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে ইনস্টিটিউট ও পছন্দের টেকনোলজি/ সাবজেক্টে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় জেনে নেওয়া।

এ নিয়ে আমার কিছু ব্যক্তিগত পরামর্শ —

১) পছন্দের ইনস্টিটিউট ও সাবজেক্ট লিস্ট তৈরিঃ- যেহেতু ভর্তি প্রক্রিয়াটা সকল পলিটেকনিক ও টিএসসিতে সেন্ট্রালি এবং একসাথে তাই ভর্তির ফরম ফিলাপ করার আগেই নিজ জেলা বা আশপাশের জেলাতে অবস্থিত পলিটেকনিক গুলোর মধ্যে পছন্দ অনুযায়ী ইনস্টিটিউট ও সাবজেক্ট লিস্ট করা জরুরী। ইনস্টিটিউট এর ক্ষেত্রে – সবচেয়ে ভাল হয় নিজ পরিবারের কাছে থেকে পড়াশোনা করার সুযোগ থাকলে, তা না হলে নিজ পরিবার থেকে নিকটতম ইনস্টিটিউট এর কাছাকাছি বাসা নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ থাকলে। সাবজেক্ট এর ক্ষেত্রে – ইনস্টিটিউট গুলোতে বর্তমান যেসকল সাবজেক্ট আছে তার সবগুলোই সময়োপযোগী এবং কর্মক্ষেত্রে চাহিদা আছে এমন। তারপরও তোমার জন্য কোন সাবজেক্টে ক্যারিয়ার গঠন উপযোগী সে অনুযায়ী একটা প্রায়োরিটি লিস্ট তৈরি করে নিতে পার। সাধারণত বিগত বছর গুলোতে জব সার্কুলার অনুযায়ী দেখা যায় – সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, পাওয়ার, কম্পিউটার এর সরকারি/বেসরকারি সার্কুলার বেশী হয়। কারণ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ তাই কনস্ট্রাকশন, পাওয়ার সেক্টর, আইটি সেক্টর ও উৎপাদন সংশ্লিষ্ট সেক্টর গুলোতে উল্লেখিত সাবজেক্ট সংশ্লিষ্ট জব তুলনামূলক বেশী। সবচেয়ে ভাল হয় তোমার পরিচিত অভিজ্ঞ জনদের সাথে পরামর্শ করে লিস্ট করতে পারলে। মনে রাখবে, ইনস্টিটিউট বা সাবজেক্ট কতটা বিখ্যাত সেটার উপর কখনই তোমার ক্যারিয়ার নির্ভর করবে না। তা নির্ভর করে তুমি যে বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করবে তার উপর কতটা স্কিল হতে পারছো।

২) Teacher-Student Ratio – বর্তমান ইনস্টিটিউট গুলোতে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষক রয়েছে। কিন্তু তুমি যে ইনস্টিটিউট ও যে সাবজেক্ট পছন্দের শীর্ষে রাখছো ঐ সাবজেক্ট সংশ্লিষ্ট ঐ ইনস্টিটিউটে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষক, ল্যাব সহকারী (ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর) আছে কিনা জেনে রাখা ভাল। অথবা থাকলেও পর্যাপ্ত ক্লাস হয় কিনা জেনে নিতে পারো। অনেক সময় সাবজেক্ট সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর যথেষ্ট না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ সাবজেক্টের ঠিকমতো ক্লাস ও ব্যবহারিক ক্লাস হয়না। তাই আগে থেকেই শিক্ষক ও ছাত্রের অনুপাত সম্পর্কিত ধারণা রেখেই ইনস্টিটিউট ও সাবজেক্ট নির্বাচনের লিস্ট তৈরি করা উচিত।

৩) ল্যাব ও ওয়ার্কশপঃ- সাধারণত ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যারিয়ার নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের স্কিলের উপর। এই কোর্সে থিউরি ক্লাসের পাশাপাশি যথেষ্ট পরিমাণ প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস হওয়া জরুরী। প্রযুক্তি দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে তাই সে অনুযায়ী ছাত্র ছাত্রীরা স্কিল হয়ে গড়ে ওঠা উচিত। তুমি যে ইনস্টিটিউট ও সাবজেক্টের পছন্দের তালিকা করছো তার যথেষ্ট ল্যাব বা ওয়ার্কশপ সুবিধা আছে কিনা জেনে লিস্ট তৈরি করতে পারো। অথবা সংশ্লিষ্ট সাবজেক্টের লার্নিং সোর্স যথেষ্ট কিনা জেনে রাখা ভাল। (উল্লেখ্য যে, সরকার ইতিমধ্যে সকল ইনস্টিটিউটের সকল ল্যাব/ওয়ার্কশপ গুলো আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে সজ্জিত করতে কাজ করছে)

৪) Co-Curriculum Activities – পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে ডাইনামিক পারসোনালিটি সম্পন্ন ব্যক্তি হিসাবে গড়ে তুলা উচিত। তোমাদের পড়াশোনার পাশাপাশি নানা ধরনের একটিভিটি তোমাকে সুন্দর ক্যারিয়ার গড়তে পূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই চেষ্টা করো ইনস্টিটিউট লাইফ থেকেই নানা ধরনের Co-curriculum activities গুলোতে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে। সেজন্য ইনস্টিটিউট নির্বাচনের ক্ষেত্রে পড়াশোনার পাশাপাশি ঐ ইনস্টিটিউটে Co-curriculum activities গুলো যেমন- ডিবেটং ক্লাব, ল্যাঙ্গুইজ ক্লাব, রোভার স্কাউটস, স্পোর্টিং ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, রোবটিক্স ক্লাব ইত্যাদি আছে কিনা। তোমার পড়াশোনা তোমাকে ক্যারিয়ার গড়তে যেমন সহযোগিতা করবে ঠিক তেমন co-curriculum activities ক্লাব গুলোও সহযোগিতা করবে। তাই লিস্ট করার ক্ষেত্রে বিষয় গুলো বিবেচনায় রাখতে পারো।

৫) উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রঃ- সাবজেক্ট পছন্দ লিস্ট করার ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সুবিধা বিবেচনায় রাখলে ভাল হয়। ইনস্টিটিউট গুলোতে বর্তমান যে সাবজেক্ট গুলো আছে তার সবকয়টিতে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। যেমন – পাওয়ার, আরএসি, অটোমোবাইল, মেকানিক্যাল, মেকাট্রনিক্স, এই সাবজেক্ট গুলোতে পড়াশোনা করলে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হবে “মেকানিক্যালে”। অনুরুপ ভাবে সিভিল, কনস্ট্রাকশন, সিভিল(উড), এ ডিপ্লোমা করলে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হবে ” সিভিলে”। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সম্পন্ন করা ছাত্র ছাত্রীরা দেশে ডুয়েট সহ দশটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ থাকলেও সকল টেকনোলজির ছাত্র ছাত্রীদের জন্য তা প্রযোজ্য নয়। একমাত্র “ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট)” সবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তাই পছন্দের লিস্ট করার ক্ষেত্রে বিষয় গুলো ভালোভাবে জেনে লিস্ট করতে পারো।

৬) অভিজ্ঞ জনদের পরামর্শ নেওয়াঃ- সবচেয়ে ভাল হয় তোমার বা তোমার অভিভাবকের পরিচিত পলিটেকনিক সিস্টেমে পড়াশোনা শেষ করে ভাল ক্যারিয়ার করছে এমন কারও সাথে ইনস্টিটিউট, সাবজেক্ট, ভবিষ্যত তোমার প্লানিং, চাকরি ও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্র, উদ্দোক্তা হওয়ার সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলে। সব ধরনের আলোচনার ফলে ইনস্টিটিউট ও সাবজেক্ট এবং তার উপর ক্যারিয়ার কেমন হবে তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। বর্তমান ৪৯ টি সরকারি পলিটেকনিক এ কোন না কোন সুবিধা অসুবিধা আছে কিন্তু তারমধ্যে তোমার জন্য কোনটা ভাল হবে তার উপর ভিত্তি করে ইনস্টিটিউট ও সাবজেক্ট পছন্দ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা করা উত্তম হবে। সবার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা ও ভালোবাসা রইল।

মো. বখতিয়ার হোসেন
ইন্সট্রাক্টর ( টেক/মেকানিক্যাল)
বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, বরিশাল।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © polytechnicbarta.com
Theme Customized BY LatestNews