1. news.polytechnicbarta@gmail.com : admin :
  2. contact.mdrakib@gmail.com : Rakib Howlader : Rakib Howlader
  3. tanjid.fmphs@gmail.com : Tanjid : Tanjid
কারিগরি শিক্ষা : বিশ্ব বনাম বাংলাদেশ - পলিটেকনিক বার্তা
রবিবার, ২২ মে ২০২২, ০৮:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মেট্রোরেলের সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা, সর্বোচ্চ ৯০ ব্যক্তি উদ্যোগে অর্ধ শত পরিবারে তৌহিদের ঈদ উপহার বিতরণ ডিপ্লোমা শেষ করা শিক্ষার্থীরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী মুহাম্মদ (সা.) এর পোশাক দেখতে ইস্তাম্বুলে হাজারো মানুষের ঢল জঙ্গিবাদে জড়ানোয় পলিটেকনিক পড়ুয়া ছাত্র গ্রেপ্তার কর্ম উপযোগী শিক্ষার জন্য কারিগরি শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করা হবে: দীপু মনি বাংলাদেশ থেকে এ বছর হজে যেতে পারবেন ৫৭ হাজার ৮৫৬ জন উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বিনামূল্যে শেখার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে রোজা রেখে যেসব কাজ করবেন না কারিগরি শিক্ষায় অগ্রগতির প্রশংসা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের, দাবি মন্ত্রণালয়ের

কারিগরি শিক্ষা : বিশ্ব বনাম বাংলাদেশ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২০
  • ৬৮২ বার পঠিত

কারিগরি শিক্ষা এমন এক শিক্ষা পদ্ধতি যেখানে পাস-ফেল বলে কিছু নেই। বরং এটি একজন মানুষকে যোগ্য প্রতিযোগী করে গড়ে তোলার এক প্রয়াস, যেখানে হয় আপনি যোগ্য অথবা এখনও যোগ্য নন।তাই পরিপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের জন্য এবং একজন যোগ্য প্রতিযোগী হতে আপনাকে যতবার প্রয়োজন ততবার পরীক্ষা দেবার এবং নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ দেয়া হয়।

কারিগরি শিক্ষায় তত্ত্বীয় পড়াশুনার চেয়ে বাস্তব প্রয়োগে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়, যাতে করে একজন কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তি নিজের যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে সবচেয়ে ভালো কাজের সুযোগ খুঁজে নিতে পারে ।বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় কারিগরি শিক্ষাকে চাকুরির ক্ষেত্রেও খুব গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। একজন চাইলে খুব সহজেই কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে নিজের পূর্বের কাজ থেকে বেরিয়ে নতুন কাজ করতে পারে এবং নিজের ক্যারিয়ার কে সমৃদ্ধ করতে পারে।

প্রতিযোগিতার বাজারে কারিগরি শিক্ষা যোগ্য প্রতিযোগী তৈরিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। সমমানের শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি এই পদ্ধতি কার্যকর এবং যুগোপযোগী। শিক্ষায় উন্নত দেশগুলোতে আমরা কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রমের প্রসারিত চিত্র দেখতে পাই।

জার্মানি তে ১৯৬৯ সালে কারিগরি শিক্ষার যাত্রা শুরু হয়।জার্মানি তে প্রচলিত রয়েছে ডুয়েল ভোকেশনাল ট্রেনিং, যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এখানে একই সাথে একজন শিক্ষার্থী ভোকেশনাল ট্রেনিং স্কুলে অধ্যয়ন করে এবং একটি সত্যিকারের কোম্পানি/ইন্ডাস্ট্রি তে কাজ করে বাস্তব জ্ঞান লাভ করে।এখানে ভোকেশনাল স্কুলে প্রধানত তত্ত্বীয় অংশ, যা ইন্ডাস্ট্রি তে কাজের জন্য দরকার সেটা শিখানো হয়, আর বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং কাজের সুযোগ মেলে কোম্পানিতে। ভোকেশনাল ট্রেনিংকালীন সময়ে একজন ট্রেইনি কোম্পানি থেকে মাসিক বেতন পেয়ে থাকে,যা গড়ে ৭৯৫ ইউরো(৫৭,২৪০ টাকা),কাজের ক্ষেত্র সাপেক্ষে এটি আরো বেশি হতে পারে, যেমন মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার দের ক্ষেত্রে মাসিক আয় গড়ে ৯৫০ ইউরো।

এবার আসা যাক, শিক্ষায় নিজেদের অনন্য বৈশিষ্টের জন্য খ্যাত ফিলিপাইনের কথায়।ফিলিপাইনে প্রথমে ৬ বছরের প্রাইমারি স্কুল এবং ৪ বছরের হাইস্কুল কে প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি লেভেলের এডুকেশনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।এরপরে থাকে টারশিয়ারি লেভেল,যেখানে শিক্ষার্থীদের হাতে কয়েকটি অপশন থাকে — ৪/৫/৬ বছরের ডিগ্রী প্রোগ্রামে পড়াশুনা করা অথবা কারিগরি শিক্ষা অর্জন করা।TESDA(Technical Education and Skill Development Authority) এর আওতায় TEVT(Techinical Education Vocational Training) এর এই প্রোগ্রাম ফিলিপাইনে শুধুমাত্র হাইস্কুল পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্যই কেবল উপযোগী না, ফিলিপাইন সরকার এই সুযোগ দিয়ে থাকে দেশটির সেসকল নাগরিকদের যারা বেকার, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, কোন কারণে পূর্বের কাজ হারিয়েছে, বিদেশে কর্মরত সেই সকল শ্রমিক যারা এখন দেশে কাজ করতে চাচ্ছে।২০০৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই প্রোগ্রামের সবচেয়ে বেশি শতাংশ ফল ভোগ করে বেকার সেই সকল তরুণরা যারা TVET থেকে ট্রেনিং নিয়ে নিজের আত্মকর্মসংস্থান করছে।ফিলিপাইনে এই প্রোগ্রাম খুবই প্রতিযোগিতামূলক। এটা তরুণদের যোগ্য করে তোলে ২১ শতকের কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে।

দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায়ও হাইস্কুল থেকে গ্রাজুয়েশন এর পরে শিক্ষার্থীদের হাতে ৩ টি অপশন থাকে।(১)তারা সরাসরি কাজে ঢুকে যেতে পারে;(২)তারা ২/৩ বছরের ভোকেশনাল ট্রেনিং করতে পারে;(৩)তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারে।দেশটি বর্তমানে ভোকেশনাল শিক্ষার পরিমাণ বাড়ানোর দিকে বিশেষ মনোযোগী।২০২২ সালের মধ্যে ভোকেশনাল শিক্ষা গ্রহণের পরিমাণ কে ২৯% এ উন্নীত করার জোর কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন তারা।ভোকেশনাল শিক্ষার খরচ কমানোর জন্যও কাজ করছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়।২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভোকেশনাল ট্রেনিং সম্পন্ন করে হায়ার এডুকেশনে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

জাপানে ভোকেশনাল শিক্ষা ৩ ধাপে সম্পন্ন করা যায়। প্রথমে শিক্ষার্থীদের ৯ বছরের আবশ্যিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে হয়। পরে সেকেন্ডারি এবং টারশিয়ারি ধাপে ভোকেশনাল শিক্ষা সম্পন্ন করা যায়।জাপানে পূর্বে শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের কাছে ভোকেশনাল শিক্ষার চেয়ে একাডেমিক পড়াশুনা বেশি গুরুত্ব পেত।ভোকেশনাল শিক্ষা ছিল মূলত লো গ্রেডের শিক্ষার্থী এবং আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য।কিন্তু বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রির কাজের ধরন ভোকেশনাল ট্রেনিং-এর সাথে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় ভোকেশনাল ট্রেনিং এবং ভোকেশনাল শিক্ষা অনেক বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে। শুধুমাত্র স্কুল পাস করা শিক্ষার্থীরাই ভোকেশনাল শিক্ষার দিকে ঝুঁকছে এমন নয়; বরং গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করে যারা কর্মক্ষেত্রে যথাযথ প্রয়োগ দেখাতে পারছেন না, তারাও ভোকেশনাল ট্রেনিং-এর দিকে সমানভাবে আগ্রহী হচ্ছে।

আমেরিকার বিভিন্ন প্রদেশে বিভিন্নরকম ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে, যেগুলো ‘ট্রেডস্কুল’ নামেও পরিচিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেকেন্ডারি স্কুল শেষ করার পরে শিক্ষার্থীরা ভোকেশনাল শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই প্রাইভেট কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত।

সিঙ্গাপুরে ভোকেশনাল শিক্ষার সুত্রপাত হয় ১৯৬০ সালের দিকে। কিন্তু তখন ভোকেশনাল শিক্ষার প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল খুবই নেতিবাচক। ধীরে ধীরে অভিভাবকরা ভোকেশনাল শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করা শুরু করেন। ভোকেশনাল ট্রেনিং আসলে তাদের সন্তানদের বিশাল সিঙ্গাপুরিয়ান সমাজে কাজের জন্য সত্যিকার অর্থে যোগ্য করে তুলছে। ১৯৯২ সাল থেকে সিঙ্গাপুরে ভোকেশনাল ট্রেনিং বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বাবা-মায়েরা সন্তানদেরকে ভোকেশনাল শিক্ষায় উৎসাহিত করা শুরু করেন। ২০১৪ সালে ভোকেশনাল শিক্ষায় গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের ৮৪% তাদের গ্রাজুয়েশনের ৬ মাসের মধ্যে নিজ নিজ কাজের ক্ষেত্রে চাকুরি শুরু করে, যা অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরকে ভোকেশনাল শিক্ষায় আরো উদ্বুদ্ধ করেছে।

মালয়েশিয়াতে চালু রয়েছে ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থা যা UNESCO এর TVET প্রোগ্রাম দ্বারা পরিচালিত হয়। TVET প্রোগামের মাধ্যমে এখানে সার্টিফিকেট, ডিগ্রি, ডিপ্লোমা পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা যুক্ত হতে পারে। তাদেরকে MOHE(Ministry of Higher Education) সহ আরো ৭ টি মন্ত্রণালয় থেকে এই ডিগ্রি, ডিপ্লোমা এবং সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এখান থেকে ভোকেশনাল শিক্ষার সার্টিফিকেট গ্রহণের পরে তারা ক্রেডিট ট্রান্সফার করে উচ্চ শিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে।

চীন কারিগরি শিক্ষার ব্যাপারে খুবই তৎপর দেশগুলোর একটি। চীনের শিক্ষাব্যবস্থায়ও ৩ ধাপে কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণ করা যায় — জুনিয়র সেকেন্ডারি, সিনিয়র সেকেন্ডারি এবং টারশিয়ারি। ২০০১ সালে চীনে ১৭,৭৭০ টি ভোকেশনাল সেকেন্ডারি স্কুল ছিল যাতে প্রায় ১১,৬৪২,৩০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করত।দিন দিন দেশটির কারিগরি শিক্ষা এবং গবেষণার পরিমাণ বাড়ছে এবং এর প্রমাণ চীনের পণ্যে সয়লাব হওয়া বাজার দেখে সহজেই বোঝা যায়।

বাংলাদেশে কারিগরি বা ভোকেশনাল শিক্ষার যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৭ সালে, ১ নং সংসদীয় কারিগরি শিক্ষা আইনবলে।বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার

কারিকুলাম সমূহ

  • এস.এস.সি (ভোকেশনাল) ২ বছর মেয়াদী
  • ডিপ্লোমা ইন কমার্স (২ বছর মেয়াদী)
  • এইচ.এস.সি (বিজনেস ম্যানেজম্যান্ট) ২ বছর মেয়াদী
  • ডিপ্লোমা-ইন-ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (৪ বছর মেয়াদী)
  • ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং (৪ বছর মেয়াদী)
  • ডিপ্লোমা-ইন-এগ্রিকালচার (৪ বছর মেয়াদী)
  • ডিপ্লোমা-ইন-ফিশারিজ (৪ বছর মেয়াদী)
  • ডিপ্লোমা ইন হেলথ টেকনোলজি এন্ড সার্ভিসেস(৪ বছর মেয়াদী)
  • ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (৪ বছর মেয়াদী)
  • ডিপ্লোমা-ইন-ফরেস্ট্রি
  • ডিপ্লোমা-ইন- লাইভস্টক
  • ডিপ্লোমা-ইন- ডিপ্লোমা ইন টেকনিক্যাল এডুকেশন
  • ডিপ্লোমা-ইন-জুট টেকনোলোজি
  • ডিপ্লোমা-ইন-জুট সার্ভেয়িং

বর্তমানে ৪৯টি সরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট রয়েছে। এর মধ্যে পুরোনো ইন্সটিটিউটের সংখ্যা ২০টি, যেগুলো পুরোপুরি সরকারি। নতুন রাজস্বভুক্ত ইন্সটিটিউটের সংখ্যা পাঁচটি, মনোটেকনিক ইন্সটিটিউট ৩টি, প্রকল্পভুক্ত ১৮টি ও মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সংখ্যা ৩টি।

বেসরকারী পলিটেকনিকের সংখ্যা ৩৮৭টি। ২০২০ সালের মধ্যে দেশের মোট শিক্ষার্থীর ২০ ভাগ কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় উপনীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের নানাবিধ উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনার ফলে ইতিমধ্যে এই হার ১৪ভাগে উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব

বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার অপরিসীম গুরুত্বের কথা তুলে ধরে শাহজালাল বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড নিয়াজ আহম্মেদ বলেন,

“দেশের চাহিদা মেটানো ও বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিতে ব্যাপক কারিগরি শিক্ষা প্রয়োজন। কেননা আমাদের জনশক্তি বিশাল। এখানে বাইরের বাজার না ধরতে পারলে আমাদের পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।……

জনশক্তি রপ্তানিতে আমরা এখনো অদক্ষ ক্যাটাগরিতেই রয়ে গেছি। আমাদের ঝুঁকির জায়গা গার্মেন্টশিল্প। ভারত ও ভিয়েতনাম গার্মেন্ট-পণ্য রপ্তানিতে এখনো আমাদের পেছনে রয়েছে; কিন্তু ভারত সরকার তার দেশের উদ্যোক্তাদের এবং এ শিল্পে নিয়োজিত শ্রকিকদের এক বিশাল প্রণোদনা দিতে যাচ্ছে। এতে তারা আমাদের ছাড়িয়ে যাওয়ার চিন্তা করছে। কিন্তু আমরা বিষয়টি নিয়ে তেমন ভাবছি না।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য তারা কল্যাণ তহবিল গঠন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে। রয়েছে এ শিল্পে নিয়োজিত উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা। কোনো কারণে গার্মেন্টশিল্পে ধস নামলে বিকল্প কী? জনশক্তি রপ্তানিতে আমাদের অবস্থা এখন ভালো নয়। মালয়েশিয়া লোক নেওয়ার কথা বলেও আবার পিছপা হয়েছে। আমাদের অর্থনীতিকে নিজেদের মতো করে শক্তিশালী করার প্রত্যয়ে নির্ভরতা কমানোর জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিকল্প নেই।”

বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার অবস্থা এবং উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনামূলক পর্যালোচনা

এদিকে হতাশাজনক মন্তব্য করেছেন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। অভিযোগে জানা গেছে, দক্ষ প্রশিক্ষক, মানসম্মত কারিগরি শিক্ষার অভাব, শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা, কাঁচামাল সংকট ইত্যাদি কারণে পিছিয়ে পড়ছেন কারিগরি শিক্ষার্থীরা। কারিগরি বোর্ড সূত্র জানায়, কারিগরি শিক্ষায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছর প্রায় ৭৫ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হন। চার বছরের কোর্স শেষে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের ভালো চাকরির জন্য অর্জন করতে হয় বিএসসি ডিগ্রি। কিন্তু এ ডিগ্রি পেতে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মাত্র একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এটি গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতি শিক্ষাবর্ষে মাত্র ৫২০ জন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারকে উচ্চশিক্ষার জন্য এখানে ভর্তি করা হয়। একজন ভর্তিচ্ছু পরপর তিনবার ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ভর্তিচ্ছুদের অনেক বেশি প্রার্থীর সঙ্গে ভর্তিযুদ্ধ করতে হয়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগে এসব ভর্তিচ্ছু বিএসসি করতে ভর্তির আবেদন করতে পারলেও তাদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। ভর্তির প্রশ্নাবলিও দেওয়া হয় কলেজের সিলেবাস থেকেই। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে অধ্যয়ন করা যারপরনাই ব্যয়বহুল।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণের সংখ্যা বাড়াতে সরকার একটি প্রকল্পের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১ লাখ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করবে। তবে কারিগরি শিক্ষার হার বাড়াতে অভিভাবকসহ শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিতদের ভালো কর্মসংস্থানে মূল প্রতিবন্ধকতা হলো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের অভাব ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের স্বল্পতা।

১ জানুয়ারি,২০১৮ এর দৈনিক বর্তমান পত্রিকার একটি রিপোর্টে দেখানো পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত শিক্ষার্থীদের সংখ্যায় বেশ বড় রকমের পার্থক্য ধরা পড়ে।

এই ছোট একটি পরিসংখ্যান ই কারিগরি শিক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থান অনেকটা তুলে ধরে।

দেশে সাধারণ শিক্ষাকে যেভাবে গুরুত্বের সাথে দেখা হয়, কারিগরি শিক্ষাকে সেভাবে দেখা হয়না। অনেকক্ষেত্রে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করতে চায়, কেননা আমাদের দেশে কারিগরি শিক্ষা মূলত কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা। মধ্যবিত্তদের মধ্যেও কারিগরি শিক্ষায় আসার হার উল্লেখজনকভাবে কম। অনেক অভিভাবক এটিকে অসম্মানের চোখেই দেখেন।

এসএসসি পাসের পরে তাই অধিকাংশ শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষার দিকেই ঝুঁকে।এবং দেশে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যার চেয়ে পরিক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম, যার ফলে এসএসসি পাস করা সকল শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলেও সেখানে কয়েক লাখ সিট ফাঁকা থেকে যাচ্ছে। সরকারের সঠিক নীতির অভাবে প্রায় ৪ শতাধিক বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অনুমোদিত আসনের প্রায় ৫০ শতাংশ আসন শূন্য থেকে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে সরকার যদি কারিগরি শিক্ষায় ৫০% ভর্তি বাধ্যতামূলক করে তবে আশার আলো দেখা সম্ভব।

কেননা দক্ষতাবিহীন সনদভিত্তিক শিক্ষা দেশ ও জাতির জন্য বোঝা। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাবৃদ্ধি আমাদের এ কথাই জানান দেয়। প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণী বেকারের তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন।

দেশে সাধারণ শিক্ষার জন্য শিক্ষাবোর্ড ৮ টি হলেও কারিগরি শিক্ষার জন্য শিক্ষাবোর্ড রয়েছে মাত্র ১টি। অথচ কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং যুগোপযোগীতার কথা বিবেচনা করে এই শিক্ষাবোর্ড এর সংখ্যা হওয়া উচিত সাধারণ শিক্ষাবোর্ড এর চেয়ে বেশি।

কারিগরি শিক্ষা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ১৯৬৭ সালে। উপরে উল্লিখিত দেশগুলোর সমসাময়িক এবং অনেক দেশের তুলনায় আগে। যেখানে বাংলাদেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৩৭ টি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৯৫ টি(বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী) সেখানে সরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৪৯ টি এবং বেসরকারি ৩৮৭ টি।

কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অপ্রতুলতা না থাকলেও প্রতিবছর অনেক আসন রয়ে যাচ্ছে শূন্য।অথচ আমরা জানি, বিশাল জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ।আবার প্রতি বছর পাল্লা দিয়ে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।দেশের বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি গুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদে শোভা পাচ্ছে বিদেশীরা, তথা বিদেশ থেকে ডিগ্রিধারীরা।এ থেকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি ইন্ডাস্ট্রির অনাস্থাই প্রকাশ পায়।

কিন্তু সেক্ষেত্রে সরকার এবং যথাযথ বেসরকারি মহলের সদয় দৃষ্টি প্রশ্নবিদ্ধ। শিল্পে নিয়োজিত উদ্যোক্তাদের যথাযথ ভূমিকা এখানে খুব বেশি নেই। যেখানে জার্মানি তে কারগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সাথে সাথে ডুয়েল ভোকেশনাল প্রোগ্রামের অধীনে শিক্ষার্থীরা মাসিক প্রায় ৬০ হাজার টাকা উপার্জন করছে সেখানে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের ৮০০ টাকা বৃত্তি প্রদান করা হয়।

বিশাল জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে তথা দক্ষ জনশক্তিতে রুপান্তর করার জন্য কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো।

তথ্যসূত্র:

https://bn.wikipedia.org

http://www.tesda.gov.ph/uploads/file/Phil%20TVET%20system%20-%20syj

uco.pdf

https://www.unescap.org/sites/default/files/The%20Philippine%20TVET%20System-NEDA-Aug20%20%5BCompatibility%20Mode%5D.pdf

http://ncee.org/what-we-do/center-on-international-education-benchmarking/top-performing-countries/south-korea-overview/south-korea-school-to-work-transition/

https://internationaleducation.gov.au/International-network/japan/countryoverview/Documents/2016%20VET%20brief.pdf

https://en.wikipedia.org/wiki/Education_in_Singapore#Vocational_education

http://www.kalerkantho.com/print-edition/muktadhara/2016/07/18/382206

http://www.kalerkantho.com/online/national/2017/06/03/504615

http://www.dailybartoman.com/details.php?id=37895

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © polytechnicbarta.com
Theme Customized BY LatestNews