1. news.polytechnicbarta@gmail.com : admin :
  2. mdrakibbpi@gmail.com : Rakib Howlader : Rakib Howlader
  3. tanjid.fmphs@gmail.com : Tanjid : Tanjid
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন আজ সংবাদ সম্মেলনে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর সাক্ষাৎকার পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ছে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত! স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু মৃত ব্যক্তির জন্য জীবিতদের যে আমল করতে বলে ইসলাম কারিগরি শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত গ্রেডেশন তালিকা প্রকাশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললে হবে না এইচএসসি পরীক্ষা এমপিওভুক্ত হচ্ছেন বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আরও ২৪১ শিক্ষক ডিপ্লোমা ভর্তির ৩য় পর্যায়ের ফলাফল প্রকাশিত

৩০ সেপ্টেম্বর বন্ধ হয়ে যাবে সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় শিফট

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ১৭৮ বার পঠিত
দেশের কারিগরি শিক্ষা গভীর সংকটে। সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট ও টেকনিক্যাল স্কুলগুলোর দ্বিতীয় শিফট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে। ওইদিন থেকে দ্বিতীয় শিফটের ক্লাস আর না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষকরা। দ্বিতীয় শিফটের ক্লাস নেওয়ার জন্য সরকার তাদের ভাতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে উল্টো কমিয়ে দেওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। রাগ-অভিমান ও ক্ষোভ থেকে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে দ্বিতীয় শিফটের ভাতা উত্তোলন বন্ধ রেখেছেন তারা। গত ১৫ মাস তারা ক্লাস চালিয়ে গেলেও কোনো টাকা নিচ্ছেন না।
ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা গত ১ আগস্ট থেকে সারাদেশে দ্বিতীয় শিফটের ক্লাস নেওয়া বন্ধ করে দেন। ৭ আগস্ট কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রওনক মাহমুদ ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোরাদ হোসেন মোল্লার সঙ্গে আলোচনার পর তাদের আশ্বাসে সরকারকে দুই মাস সময় দেওয়া হয়। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর সেই সময় শেষ হবে। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষকদের দাবি পূরণের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এর আগে ভাতা বাড়ানোর দাবিতে শিক্ষকরা শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুন্সী শাহাব উদ্দিনের সঙ্গেও কয়েক দফা বৈঠক করেছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থী বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮২ সালে সরকারি পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বিতীয় শিফট চালু করা হয়। প্রায় ৪০ বছর ধরে শিক্ষকরা তাদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে দ্বিতীয় শিফটের ভাতা হিসেবে পেয়ে আসছেন। গত বছর এপ্রিল মাসে অনেকটা আকস্মিকভাবে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের এক আদেশে এ ভাতা কমিয়ে দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষকরা জুলাই থেকে ভাতা উত্তোলন বন্ধ করে দেন।
সংশ্নিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দেশের বেকারত্ব কমানোর জন্য সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় ভর্তির হার আগামী বছর (২০২০ সালে) মোট শিক্ষার্থীর ২০%, ২০৩০ সালে ৩০% এবং ২০৪০ সালে ৫০%-এ উন্নীত করার টার্গেট নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। দ্বিতীয় শিফট বন্ধ হয়ে গেলে কোনোভাবেই ওই টার্গেটে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. তাহের জামিল সমকালকে বলেন, কারিগরি শিক্ষায় এনরোলমেন্ট বাড়াতে শিক্ষকরা নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করছেন। তারা দ্বিতীয় শিফটে প্রথম শিফটের একই সমান ক্লাস নেন। পরীক্ষা ও খাতা দেখায় একই পরিমাণ শ্রম দেন। এর বিনিময়ে সরকার থেকে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ অর্থ দ্বিতীয় শিফটের সম্মানী হিসেবে পেয়েছেন। ধাপে ধাপে তা শতভাগে উন্নীত করার জন্য সরকারি প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ২০১২ সালে মন্ত্রণালয়ের গঠন করা এক কমিটির প্রস্তাবে এ ভাতা ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে মূল বেতনের ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। তিনি জানান, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল চালুর পর তিন বছর একই হারে তা পেয়েছেন। তবে ২০১৮ সালের এপ্রিলে অনেকটা আকস্মিকভাবে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ ভাতা ১ জুলাই ২০১৮ থেকে ২০০৯ সালের বেতন স্কেলের ৫০ শতাংশ দেওয়ার কথা বলা হয়। এতে ভাতা কমে চার ভাগের এক ভাগ হওয়ায় তারা ভাতা উত্তোলন বন্ধ করে দেন। এই শিক্ষক নেতা বলেন, এরই মধ্যে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে তারা একাধিক বৈঠক করেছেন। এখন সরকার তাদের ২০০৯ সালের বেতন স্কেলের ৬৭ শতাংশ হারে ভাতা দিতে চায়। আর তাদের দাবি, ২০১৫ সালের স্কেলের ৫০ শতাংশ হারে ভাতা দিতে হবে।
ধাপে ধাপে ভাতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে উল্টো কমিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ কারিগরি শিক্ষকরা। বিষয়টি তারা মেনে নিতে পারছেন না। সারাদেশের ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বর্তমানে দ্বিতীয় শিফট প্রোগ্রাম চালু আছে। প্রতি বছর প্রথম শিফটে ৫০ হাজার এবং দ্বিতীয় শিফটে ৫০ হাজার, মোট এক লাখ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায় ভর্তি হয়। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একাধিক শিক্ষক জানান, কারিগরি শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় শিফটের একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এটি ব্যাহত হলে কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার হ্রাস পাবে।
বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক জহিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, তারা কোনো বাড়তি সুবিধা নিচ্ছেন না। ডাবল শ্রমের বিনিময়ে অর্ধেক মজুরি চাইছেন। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে হঠাৎ করে পুরনো স্কেলে ভাতা নির্ধারণ করাতেই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই আদেশ অমানবিক। একটি কার্যকর বিষয়কে এভাবে অকার্যকর করা যায় না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার চাইলে দ্বিতীয় শিফটের জন্য আলাদা জনবল নিয়োগ দিতে পারে, আমাদের তাতে আপত্তি নেই। আমরা প্রথম শিফটের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত। আমরা আমাদের কাজ করব।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ সূত্র জানায়, কারিগরি শিক্ষকদের বেতন জটিলতা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। অর্ধেকের পরিবর্তে শিক্ষকদের গ্রেডভিত্তিক সম্মানী ভাতা দিতে ৫১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রস্তাব দিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে একটি পত্র পাঠিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
এর আগে দাবির সমর্থনে শিক্ষকরা কয়েক দফা কর্মবিরতিও পালন করেছেন। ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইনস্ট্রাক্টর শরিফুল ইসলাম রাজন সমকালকে বলেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরকার দ্বিতীয় শিফটের জন্য পৃথক শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে পুরো বেতনে। তা হলে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে তারা কেন একই দায়িত্ব দু’বার পালন করবেন? কেন তাদের দেওয়া অর্থ ‘ভাতা’ হবে, তাদের তো পুরো বেতনই দ্বিগুণ হওয়ার কথা। তিনি বলেন, হয় তাদের সম্মানী বাড়াতে হবে, নইলে সরকার নতুন করে দ্বিতীয় শিফটের জন্য আলাদা শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিক।
দ্বিতীয় শিফটের ইস্যু নিয়ে কারিগরি শিক্ষার অচলাবস্থার বিষয়ে জানতে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদকে গিয়ে পাওয়া যায়নি। এই বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও উন্নয়ন) একেএম জাকির হোসেন ভূঞা কথা বলতে রাজি হননি।
ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুর রহমান সমকালকে বলেন, শিক্ষকদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। সরকারের কাছে আমাদেরও সুপারিশ- অবশ্যই তাদের সম্মানী বাড়াতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © polytechnicbarta.com
Theme Customized BY LatestNews